অশ্রুসিক্ত নয়নে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মাইজভাণ্ডারী তরিকার নিবেদিত প্রাণ বিশিষ্ট আলেম, খতিব ও শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব আল্লামা গোলাম মোস্তফা মোহাম্মদ শায়েস্তাখান আল-আযহারী মাইজভাণ্ডারী। প্রথমে রবিবার রাতে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে । সেখানে দোয়া মুনাজাত করছেন হাজারো দরবারের মুরিদগন। দ্বিতীয় নামাজের জানাজায় নেমেছিল হাজারো মানুষের ঢল রাউজানের জন্মভূমিতে। সোমবার দুপুর আড়াইটায় রাউজান আমিরহাটস্থ হযরত এয়াছিনশাহ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে তাঁর এ দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।জানাজায় ইমামতি করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের শাহী জামে মসজিদের সাবেক খতিব মাওলানা নুরুল ইসলাম ফোরকানী। মরহুমের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা মুফতি ইব্রাহিম আল কাদেরী। এ সময় মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন দরবারের সাজ্জাদানশীন ও শাহজাদাগণ , তরিকতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আলেম-ওলামা এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এর আগে, রোববার বাদ মাগরিব চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। আল্লামা শায়েস্তাখান আযহারী রোববার চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইন্তেকালে মাইজভাণ্ডারী দরবার শরীফের বিভিন্ন সংগঠন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন দরবার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আলেম সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। মরহুম শায়েস্তাখান ছিলেন রাউজানের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হযরত এয়াছিনশাহ পাবলিক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও হযরত এয়াছিনশাহ পাবলিক কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব এম আবদুল ওহাব বিএ, বিএড, মাইজভাণ্ডারী (রহ.)-এর ষষ্ঠ সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ায় শিক্ষকতা করেছেন এবং মাইজভাণ্ডারী তরিকার একজন নিবেদিতপ্রাণ খাদেম হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে রাউজানসহ সমগ্র চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর কর্মময় জীবন, ধর্মীয় অবদান ও শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধান সম্পাদক প্রদীপ শীল - ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন।