শুদ্ধ সংগীতের ধারাকে অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত চতুর্মাসিক উচ্চাঙ্গ সংগীতানুষ্ঠান গত ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার, সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লাস্থ বাগীশিক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগীত ভবনের অধ্যক্ষ কাবেরী সেনগুপ্ত, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছন্দা শর্মা, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের সভাপতি লায়ন কৈলাশ বিহারী সেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের অধ্যক্ষ রিষু তালুকদার। বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক ব্যাংকার উৎপল চক্রবর্তী ও বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানকারী সাংবাদিক যীশু সেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিল্পী রিমন সাহা সাহা।উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিবেশনায় ধ্রুপদ চতুরঙ্গে অংশগ্রহণ করেন- অমৃত চক্রবর্তী, উমা সেন,বিজয় দেবনাথ, চুমকি সেন,অনিরুদ্ধ দাশ,সুইটি রানী বর্মন, প্রিয়ন্তী দাশ পৃথা, সুদীপ্ত দাশ,নীলাদ্রি দাশ।এছাড়াও উচ্চাঙ্গ সংগীত একক পরিবেশন করেন শিল্পী রাজীব দাশ (কণ্ঠ),হারমোনিয়ামে- রিষু তালুকদার, তানপুরায়- প্রিয়ন্তী দাশ,শিল্পী স্নেহা মজুমদার (কণ্ঠ),যুগল পরিবেশনা করেন শিল্পী ডা. সৌমিত্র দাশ (কণ্ঠ) ও শিল্পী বিজয় দেবনাথ (কণ্ঠ)। তবলা সঙ্গতে ছিলেন তবলাশিল্পী সুরজিৎ সেন,রূপক ভট্টাচার্য, পলাশ দে ও সৌমেন দাশ। নৃত্য পরিবেশন করেন - স্বস্তিকা নন্দী, সহেলি চৌধুরী। উল্লেখ্য, উক্ত অনুষ্ঠানে বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের বার্ষিক সংগীত মূল্যায়ন পরীক্ষা–২০২৫-এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়-প্রবেশিকা বর্ষ -প্রথম-সৃষ্টি তালুকদার, দ্বিতীয় -অনিরুদ্ধ বসাক,তৃতীয় -ভাগ্যশ্রী দাশগুপ্ত। প্রথম বর্ষ- প্রথম-এনি নাথ, দ্বিতীয় -ভবতোষ রুদ্র, তৃতীয় -প্রশস্তি ঘোষ ও পৃথুস্মিতা ঘোষ। দ্বিতীয় বর্ষ- প্রথম-ঝিনুক রানী নাথ, দ্বিতীয় -স্নিগ্ধা দাশ দিবা, তৃতীয় -সৃষ্টি বণিক। তৃতীয় বর্ষ-প্রথম-উমা সেন, দ্বিতীয়-প্রিয়ন্তী দাশ পৃর্বা, তৃতীয় -মিশন বিশ্বাস।চতুর্থ বর্ষ - প্রথম -সজীব চৌধুরী, দ্বিতীয় -চুমকি নন্দী, তৃতীয় -চিন্ময় দে ও নিকিতা বিশ্বাংগ্রী,পঞ্চম বর্ষ - প্রথম-স্নেহা মজুমদার, দ্বিতীয় -সুদীপ্ত দাশ, তৃতীয়-অনিরুদ্ধ দাশ।ষষ্ঠ বর্ষ- ডা. সৌমিত্র দাশ ও বিজয় দেবনাথ, দ্বিতীয়-নীলাদ্রী দাশ, তৃতীয়- অমৃত চক্রবর্তী।বক্তারা বলেন— উচ্চাঙ্গ সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও নান্দনিক চেতনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক প্রবণতার চাপে শুদ্ধ সংগীতচর্চা অনেকাংশে উপেক্ষিত হলেও নিয়মিত সাধনা, গুরু-শিষ্য পরম্পরা এবং এমন আয়োজনের মাধ্যমে এই ধারাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ সংগীতের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের অনুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
প্রধান সম্পাদক প্রদীপ শীল - ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন।