সারা দেশে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসে ও টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে কোমর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এসময় সড়কে চলাচলকারী দুর পাল্লা ও সল্প পাল্লার যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পড়েছে।গতকাল (৭ জুলাই) মঙ্গলবার দুর্ভোগে পড়া যাত্রী ও চালকদের সাথে কথা কলে জানা গেছে,টানা বৃষ্টিতে সড়কে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রভাবিত হচ্ছে। এ কারণে সড়কে যানচলাচল বন্ধ আছে। বৃষ্টির পানি সড়ক থেকে নেমে গেলে যানচলাচল স্বাভাবিক হবে। রাউজান থেকে নোয়াখালী গামী যাত্রী ইটভাটার শ্রমিক শহিদুল আলম বলেন, আমি ও আমরা ছেলে ইটভাটায় কাজ করি। ছেলেকে দুদিন আগে বাড়ি পাঠিয়েছি। আজ আমি মালিক থেকে পাওনা মজুরী বুঝে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা। গাড়ির অগ্রিম টিকিটও কিনেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প ভাবে যাওয়া যায় কিনা চেষ্টা করছি। রাউজান রাঙামাটি সড়কের বাস চালক জালাল উদ্দীন চুনচুন বলেন, প্রকৃতিক দুর্যোগের কারণে গাড়ি বন্ধ করতে হয়েছে। যুদ্ধ করে সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা যাত্রী সেবায় সবসময় সড়কে ছিলাম এবং থাকব। রাউজানের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ও নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সড়কে যানচলাচল নেই বললেই চলে। অপরদিকে ডাবুয়া খাল ও সর্তা খাল ভেঙে অন্তত ৭ ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে পানির নিচে। চিকদাইর,নোয়াজিশপুর ইউনিয়ন, গহিরা ইউনিয়ন, পৌরসভার একাংশ, কদলপুর ইউনিয়ন, পাহাড়তলি ইউনিয়ন,বিনাজুরী ইউনিয়ন, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী হালদা ও কর্ণফুলীর জোয়ারে ভেসেছেন মাছের ঘের ও বসতবাড়ি। এ ইউনিয়নের সাম মহালদার পাড়া, কচুখাইন, সূর্যসেন পল্লী,চৌধুরী হাট ও ডুল্লাপাড়া দুই খাল ও নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির স্রোতে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা উরকিরচর ইউনিয়নে হালদার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এখানের লোকজন নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। রাউজান পৌরসভার ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ঘরে ডুকে পড়েছে পানি। কয়েক শতাধিক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ৫ নং ওয়ার্ডের বেরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে পানি বন্দি আছি আমাদের পাড়ার সবাই। দায়েরঘাটা ও জানালিহাট এলাকায় অপরিকল্পিত ভাবে জমি ভরাট করে ভবন নির্মাণ করায় বৃষ্টর পানি বেরুলিয়া খাল ও ডাবুয়া খালে প্রবেশ করতে পাচ্ছেনা। তাই আমাদের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। আমি পরিবার নিয়ে বসতঘর ছেড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ও টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আমাদের ঠিম রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে উদ্ধার ও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
প্রধান সম্পাদক প্রদীপ শীল - ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন।