চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া–মেলুয়া এলাকায় রাবার বাগান ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটায় বনের কাঠ ব্যবহার করে ইট পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে বনাঞ্চলের গাছপালা উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সরেজমিনে দেখা গেছে, ডাবুয়া ও মেলুয়া এলাকার রাবার বাগানের পাশেই কয়েকটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সিবিডব্লিউ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লার পরিবর্তে নির্বিঘ্নে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ভাটার ভেতরে ও আশপাশে বিশাল আকারের কাঠের স্তুপ মজুদ করে রাখা হয়েছে। এসব কাঠ পোড়ানোর ফলে চুল্লি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, এসব ইটভাটার অধিকাংশেরই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। তবুও দিনের পর দিন বনের কাঠ সংগ্রহ করে চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে আশপাশের বনাঞ্চল ধীরে ধীরে উজাড় হয়ে যাচ্ছে।ইটভাটার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিন-রাত মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ মণ জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়। এসব কাঠ রাউজান উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সামাজিক বনায়ন, বন বিভাগের সৃজিত বাগানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।এলাকাবাসী জানান, রাতের বেলায় ট্রাক ও ভ্যানে করে বনের কাঠ এনে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে বনভূমির গাছ কেটে নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং কৃষিজমি ও রাবার বাগানের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।স্থানীয়রা আরও বলেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে পরিবেশের ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে।এ বিষয়ে সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বনাঞ্চল রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা বলেন, “ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বনাঞ্চল বা সামাজিক বনায়নের কাঠ ব্যবহার করে কেউ ইট পোড়ালে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রধান সম্পাদক প্রদীপ শীল - ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন।