দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে কার্প–জাতীয় মা মাছ প্রথম দফায় ডিম ছেড়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে বজ্রপাত সহ বৃষ্টি শুরু হলে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে জোয়ার-ভাটার সময় ডিম ছাড়ে মা মাছ। হালদা নদীর নাপিতের ঘাট থেকে নয়াহাট পর্যন্ত এই ডিম পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, একটি নৌকায় দিনে বেলায় গড়ে ২/৩ বালতি ডিম সংগ্রহ করলেও রাতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার হালদা নদী পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ডিম সংগ্রহকারীরা নদীতে নৌকা ও বাঁশের ভেলা নোঙর করে জাল ফেলে ডিম সংগ্রহ করছেন। সংগ্রহকারীরা ২/৩ বালতি পরিমান ডিম সংগ্রহ করেছেন বলে জানান। নদীর আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাটা, নয়া হাট, গড়দুয়ারা, সিপাহি ঘাট, মাদার্শা, আমতুয়া, মোবারখীল ও কাগতিয়া এলাকায় নৌকা নিয়ে ডিম সংগ্রহের উৎসব শুরু নদী পাড়ের ডিম সংগ্রহকারী বাসিন্দারা।নদীর আজিমের ঘাট এলাকার ডিম সংগ্রহকারী শফিউল আলম দুপুর দুইটার সময় জানান, দুই নৌকায় দুই বালতি ডিম সংগ্রহ করেছেন তিনি। একই এলাকার ডিম সংগ্রহকারী মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, দুই নৌকায় ৬ বালতি ডিম সংগ্রহ করে। হাটহাজারী উপজেলার ডিম সংগ্রহ কারী কামরুল ইসলাম জানান এক নৌকায় দেড় বালতি ডিম সংগ্রহ করেছে। গড়দুয়ারা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী কামাল উদ্দিন জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বজ্রপাতসহ পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হলে রাতে নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে।হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা মাছের ডিম ছাড়ার পূর্ণিমার জোঁ শুরু হয় ২৯ শে এপ্রিল থেকে যা চলবে ৩ মে পর্যন্ত। এই জোঁ'তে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢল হালদায় নেমে আসে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। যার দরুণ বুধবার রাতে কয়েকটি স্থানে ১/২ টি ডিম পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে জোয়ারের সময় হালদা নদীর আজিমারঘাট ও তার নিচে অংশে কার্পজাতীয় মা মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে। তবে এখনো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি মা মাছ। যেহেতু পূর্ণিমার জোঁ চলছে রাতে বৃষ্টিপাত হলে পুরোদমে ডিম ছাড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম সমকালকে বলেন,বুধবার রাতে নমূনা ডিম ছাড়ার পর সকালে ধীরগতিতে মা মাছ ডিম ছাড়া শুরু করে। রাতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংগ্রহকরা ডিম সরকারি তিনটি হ্যাচারী ও বেসরকারি একটি হ্যাচারীতে ফুটানোর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।রাউজান উপজেলা মৎস্য অফিসের সূত্রে, বিগত ১৭ বছরে হালদায় মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয় ১লাখ ৪৯ হাজার ৬৯০ কেজি। পরিসংখ্যান দেখা যায়, ২০০৭ সালে হালদা নদী থেকে ২২ হাজার ৩১৪ কেজি, ২০০৮ সালে ২ হাজার ৪০০ কেজি, ২০০৯ সালে ১৩ হাজার ২০০ কেজি, ২০১০ সালে ৯ হাজার কেজি, ২০১১ সালে ১২ হাজার ৬০০ কেজি, ২০১২ সালে ২১ হাজার ২৪০ কেজি, ২০১৩ সালে ৪ হাজার ২০০ কেজি, ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি ও ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি ২০১৯ সালে ৭ হাজার কেজি, ২০২১ সালে ৮ হাজর ৫০০কেজি ২০২২ সালে ৬ হাজার ৫০০ কেজি, ২০২৩ সালে ১৪ হাজার কেজি, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ও ২০২৫ সালে ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।
প্রধান সম্পাদক প্রদীপ শীল - ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন।