1. multicare.net@gmail.com : আলোকিত রাউজান :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাউজানের চিকদাইরে আসবাবপত্র ভাংচুর করে।পরে একটি ট্রাকে করে লুট করা মালামাল নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। রাউজানে চাঞ্চল্যকর যুবদল কর্মী মুজিব হত্যা মামলায় রাজমিস্ত্রী নাঈমকে আটক ও মুক্তির দাবি সংবাদ সম্মেলন আপন পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তারা: জ্ঞানের চর্চায় গড়ে উঠুক আলোকিত ভবিষ্যৎ রাউজানে পুলিশের বিশেষ অভিযান ২টি দেশীয় এলজি ও ৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার ১৯ মাসে ২১ খুন রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে আবারও যুবদল কর্মী নিহত রাউজানে পুকুরে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু রাউজানে হিন্দু বাড়িতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দিলেন হিন্দু ফাউন্ডেশান মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটির উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত রাউজান থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে কঠোর – এমপি গিয়াস কাদের  কাগতিয়া দরবারের খতমে কোরআন মাহফিল সম্পন্ন

দীপান্বিতা পূজা: আলোয় উদ্ভাসিত রাউজান উত্তর গুজরা সেনবাড়ির এক পবিত্র সন্ধ্যা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৫৬ বার পড়া হয়েছে

যীশু সেন :
গত ২০ অক্টোবর, সোমবার, চট্টগ্রাম রাউজানে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিবেশের সাক্ষী থাকলো মুরারী সেনের বাড়ি। এখানে তৃতীয় তম উত্তর গুজরা সেন বাড়ী জাগৃতি সংঘের উপদেষ্টা প্রয়াত মিহির সেনের সহধর্মিনী মীরা সেন ব্রতী হিসেবে দীপান্বিতা পূজা (দীপ মালার ব্রত) পালন করেন। একইসঙ্গে একই স্থানে তৃতীয় তম দীপান্বিতা পূজায় ব্রত পালন করেন উপদেষ্টা অজিত সেনের সহধর্মিনী প্রাক্তন শিক্ষিকা দিপু দত্ত।এই উৎসব শুধু একটি পূজা নয়—এটি এক ঐতিহ্য, স্মৃতির আলোয় উজ্জ্বল এক সন্ধ্যা, যেখানে পরিবারের প্রজন্ম ও সমাজের নানা স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে পালন করেন আলোর জয়গাথা।পূজার পুরোহিত্য করেন পণ্ডিত কাঞ্চন চক্রবর্তী, পন্ডিত প্রবীর চক্রবর্তী ও স্বপন চক্রবর্তী ।
উক্ত পূজায় উপস্থিত ছিলেন পরিবারের ও সমাজের নানা স্তরের বিশিষ্টজনেরা—কানু সেন, খোকন সেন, জীবন দেবনাথ, রাস বিহারী সেন (সিকো), পংকজ সেন, শ্রীধাম দে, তাপস সেন, লিটন সেন, প্রণব সেন, সুমন সেন, নিতীন সাহা, যীশু সেন, রানা সেনসহ সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক, সমাজকর্মী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত শত শত ভক্তবৃন্দ। সকলে মিলিত হয়ে এই আলোর উৎসবকে পরিপূর্ণতা দেন।
রাত্রে পূজার পর সকলের জন্য ব্রতী মীরা সেন আয়োজন করেন অন্ন খাবার, যেখানে অতিথি-ভক্তদের আপ্যায়নে কোনও কার্পণ্য ছিল না। একত্রে বসে খাওয়া এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় এই পুণ্য উৎসবের রাত্রি।
দীপান্বিতা পূজা, যা দীপ মালার ব্রত নামেও পরিচিত, মূলত অন্ধকার ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আলোর প্রতীক হিসেবে উদযাপন করা হয়। এই পূজার মূল উদ্দেশ্য হলো দেবী লক্ষ্মী ও দেবী কালীর আশীর্বাদ লাভ করা। এটি সম্পদ, সৌভাগ্য, মঙ্গল ও শুভশক্তির আহ্বান এবং সমস্ত মন্দ শক্তির বিনাশের এক প্রতীকী প্রার্থনা।
পূজার দিন সেনবাড়ি হয়ে ওঠে এক আলোর রাজ্য। সারাদিক জ্বলে ওঠে শত শত প্রদীপের আলোয়। প্রতিটি প্রদীপ যেন হয়ে ওঠে এক একটি প্রার্থনার দীপ্ত প্রতীক। ভক্তদের হৃদয়ে বয়ে যায় এক অন্তর্লীন প্রশান্তি ও ভক্তিভাব।বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই দীপান্বিতা পূজা চার বছর মেয়াদী ব্রত। অর্থাৎ,এটি প্রতি বছর একই সময়ে পালিত হবে এবং চতুর্থ বছরে এই ব্রতের সমাপ্তি ঘটবে পূর্ণতাজ্ঞানের মাধ্যমে এই পূজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুশীলন নয়, এটি স্মৃতির সঙ্গে জড়ানো, প্রজন্মান্তরের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করার এক উজ্জ্বল আলোকমালা। এই আলোর উৎসব শুধু প্রদীপ জ্বালিয়ে শেষ হয় না, এটি হৃদয়ে জ্বেলে দেয় ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐতিহ্যের শিখা দীপান্বিতা পূজা তাই শুধু সেনবাড়ির নয়, হয়ে উঠেছে সমাজের এক সম্মিলিত উৎসব, যা ধর্ম, সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনের এক অনন্য নিদর্শন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট