
রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে মোহাম্মদ মুজিব (৫৫) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছে। বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় এ ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়ার হাট এলাকায়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পর এই পযর্ন্ত ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তৎমধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী সমর্থিত নেতাকর্মী রয়েছে ১৩ জন, আওয়ামী লীগের ৫ জন, তিনজন সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার অনুসারী। স্থানীয় লোকজন জানান, যুবদল কর্মী মুজিব অলিমিয়াহাট বাজারের স্থানীয় ফারুক নামে এক ফলের দোকানে বাড়ি থেকে ইফতার করে আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় অজ্ঞাত অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি করে তাঁকে লক্ষ্যে করে। এসময় তাঁর বুকে একটি ও কোপালে একটিসহ তিনটি গুলিবিদ্ধ হয় তাঁর শরীরে। গুলি করে চার সন্ত্রাসী দুইটি মোটরসাইকেল যোগে রাউজান নোয়াপাড়া সেকশন-২ সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায়। আশংকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মীকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করে।হাসপাতালে লাশের পাশে বিলাপ করতে করতে স্ত্রী শানু আক্তার সমকালকে বলেন, আমার স্বামীর কাহারো কোন বিরোধ ছিল না। আমার স্বামী রাউজানের নির্বাচিত সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনীতি করতেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমার স্বামীকে বিএনপি করার অপরাধে মারধর করেছিল একবার। গুলিতে নিহত মোহাম্মদ মুজিব পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের আওলা পিতা বাড়ির মৃত আব্দুল মোনাফের পুত্র। তিনি দুই ছেলে সন্তানের জনক।রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, গুলিতে একজনের মৃত্যু র ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। অপরাধীদের আটকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে পুলিশ। অপরাধীকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বিবেচনা করা হবে অপরাধী হিসেবে।উল্লেখ যে, ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাউজানে মুহাম্মদ হাসান (৩৫) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে শুরু হয় রাউজানে খুনোখুনির সূত্রপাত ঘটে। বিএনপির দুই নেতার কর্মীদের আধিপত্য বিস্তার ও মাটি কাটার নিয়ে সংঘর্ষ হয় অর্ধশত। গত ১৯ মাসে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনা ও ৩৮টি গুলিবিদ্ধের ঘটনা দেশের মধ্যে আলোচিত উপজেলা রাউজান। এসব ঘটনার মধ্যে বেশি আলোচিত হয়ে উঠে বিএনপি নেতা আবদুল হাকিম, যুবদল নেতা কমর উদ্দিন জিতু, নূরুল আলম বকুল, মো. জাফর, ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মানিক, যুবদল নেতা নুরুল আলম, যুবদল কর্মী ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ড। প্রকাশ্যদিবালোকে এসব হত্যা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিব্রত হয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়ে ছিল। কিন্ত রক্তের হরি খেলা বন্ধ করতে পারেনি কোন রাজনৈতিক নেতা বা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা। ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী কঠোর বার্তা দিয়েছেন রাউজানে অস্ত্রের ঝরঝরানি চলবে না। যেকোনো ভাবে বন্ধ করব সন্ত্রাস নৈরাজ্য। নির্বাচিত হয়ে আবারও খুনের ঘটনা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে আলোচিত এ উপজেলায়।
Leave a Reply