
রাউজান উপজেলার নোয়াজিষপুর এলাকায় সর্তা খালের একটি বিপজ্জনক বাঁকের কারণে ভাঙনের তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছে শতাধিক পরিবারের বসতঘর। দীর্ঘদিন ধরে খালের ওই স্থানে পানির প্রবল স্রোত তীরবর্তী এলাকায় আঘাত হানায় বসতভিটা,গ্রামীণ সড়ক ও আবাদি জমি যেকোনো সময় খালের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের কবলে পড়েও কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।সরেজমিনে দেখা যায়,রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত স্রোতস্বিনী সর্তা খালের তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে গত কয়েক দশকে খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি, অসংখ্য বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়ক। ফলে বহু পরিবার বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র গিয়ে নতুন করে বসতি স্থাপন করেছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামলেই সর্তা খালের ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। গত বছরও ভাঙনের কারণে কয়েকটি পরিবারের বাড়ির আঙিনা খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও অনেক বাড়িঘর ভাঙনের মুখে থাকায় দিন-রাত আতঙ্কে কাটছে এলাকাবাসীর।নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরেকৃষ্ণ মহাজনের বাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনিল নাথ, রাধাশ্যাম নাথ, পরেশ নাথ, রাখাল নাথ, পূর্ণ নাথ, গোবিন্দ নাথ, সজল নাথ, চন্দন নাথ ও কাজল নাথসহ শতাধিক পরিবার ইতোমধ্যে খালের ভাঙনে তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কানি ফসলি জমি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা মিঠন কান্তি নাথ ও ঝন্টু নাথ বলেন, “সর্তা খালের এই বাঁক আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। একটু একটু করে আমাদের ভিটেমাটি খালের গর্ভে চলে যাচ্ছে। প্রায় ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই বাঁকটি কেটে সোজা করা হলে অন্তত আমরা আমাদের ভাঙা কুটিরে বেঁচে থাকতে পারতাম।”স্থানীয় বাসিন্দা সুবেল নাথ ও সজল নাথ বলেন, “বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের শিকার হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। সর্তা খালের এই বাঁকা অংশটিই আমাদের দুর্ভোগের মূল কারণ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকাই খালের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”স্থানীয় তপন নাথ বলেন, সর্তা খালের একটি ইউ-টার্ন আকৃতির বাঁক পানির প্রবাহকে তীব্র করে তুলছে এবং এই বাঁকটিই মূলত ভাঙনের প্রধান কারণ। বাঁকটি কেটে খাল সোজা করে দিলে ভাঙনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।এলাকাবাসীর দাবি, খালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধী প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি খালের বাঁকটি সোজা করার উদ্যোগ নিতে হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের মানুষকে দীর্ঘদিনের এই ভাঙন আতঙ্ক থেকে মুক্তি দেবেন।
Leave a Reply