1. multicare.net@gmail.com : আলোকিত রাউজান :
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সরকারী ও নিজস্ব তহবিলের খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছি বন্যা দুর্গতদেরঃ গিয়াস কাদের চৌধুরী এমপি রাউজানে এমপির ব্যক্তিগত তহবিলের ত্রাণ বিতরণ করলেন এমপির পুত্রবধূ রাউজানে টানা বৃষ্টিতে কর্মহীন মানুষের মাঝে চালসহ শুকনো খাবার বিতরণ চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক ও রাউজানের বিভিন্ন সড়কে পানি, যানচলাচলকারী যানচলাচল বন্ধ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) রাউজান দক্ষিণ শাখার কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কাগতিয়া দরবার শরীফে পবিত্র শোহাদায়ে কারবালা (রা.) স্মরণে ৭৪তম আশুরা মাহফিল উদযাপিত জনদুর্ভোগ লাঘবে রাউজান পৌর কর্তৃপক্ষের নালা পরিষ্কার কার্যক্রম চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে যোগ দিবস অংশ নিলেন শত শত যোগপ্রেমী রাউজানে যুবদলনেতা মাসুদ হত্যা মামলার আসামি পার্বত্য এলাকায় র‍্যাবের হাতে আটক হালদা নদীতে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ

সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কোটি টাকার সেগুন কাঠ পাচার রাউজানে করাতকলই পাচারের মূল ঘাঁটি,নীরব প্রশাসন

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬১৬ বার পড়া হয়েছে

শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ,
পার্বত্য জেলা চট্টগ্রামের উত্তর বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান কাঠ রাউজানের বিভিন্ন সড়ক ও জলপথে পাচার হচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অবৈধ কাঠ পাচারকারী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাতে রেহাই পাচ্ছে না সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে শুরু করে সামাজিক বনায়ন পর্যন্ত।সূত্র জানায়, সেগুন, গর্জন, গামারী, কড়ই, আকাশমণি, জারুল, জাম সেগুন, চাপালিশ, গোলা কাঠসহ নানা প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে ট্রাক, পিকআপ ও চাঁদের গাড়িতে করে রাউজান উপজেলার প্রায় শতাধিক  করাতকলে আনা হয়। সেখানে কাঠগুলো বিভিন্ন সাইজে কেটে দ্বিতীয় ধাপে রাতের আঁধারে চট্টগ্রাম নগরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করা হচ্ছে।দিনভর চলে গাছ কাটা, আর রাত নামলেই শুরু হয় সড়ক ও জলপথে পাচারের মহোৎসব। রাত যত গভীর হয়, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ে কাঠ পাচারের তৎপরতা। রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বৃন্দাবন হয়ে শহীদ জাফর সড়ক, ইয়াছিন শাহ সড়ক, দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী সড়ক, গহিরা অদুদিয়া সড়ক,  হাফেজ বজলুল রহমান সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক পথে কাঠ পাচার হয়। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলপথে আসা কাঠভর্তি প্রতিটি বাঁশের ভেলা থেকে ১৫০ টাকা, বাঁশের ছালি থেকে ৫০ টাকা এবং কাঠভর্তি প্রতিটি জীপ থেকে ৫০০ টাকা, টমটম গাড়ি নসিমন থেকে ২৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। এসব টাকা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির নামে সংগ্রহ করে বন বিভাগ, বন বিট, থানা পুলিশ, প্রশাসনদের ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এর মাধ্যমেই অবাধে কাঠ পাচার চলছে বলে অভিযোগ।আরও জানা গেছে, রাউজানে গড়ে ওঠা শতাধিক করাতকল সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড়ের প্রধান ভোক্তায় পরিণত হয়েছে। বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এসব করাতকলে কাঠ মজুদ করে সাইজ করে পাচার করা হলেও কার্যকর কোনো অভিযান চোখে পড়ছে না অভিযোগ রয়েছে, রাউজান ঢালার মুখ স্টেশন অফিসারের চেকপোস্টে দায়িত্বরতরা মাসোহারার বিনিময়ে মূল্যবান সেগুন কাঠসহ বিভিন্ন অবৈধ মালামাল পাচারে একপ্রকার সহায়তা করেন। অনেক ক্ষেত্রে দরদাম করে টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।এরই মধ্যে ১৭ ডিসেম্বর বার্মাছড়ি সীমান্তে সর্তা খালের জলপথে অবৈধভাবে সেগুন কাঠ পাচারকালে বিপুল পরিমাণ কাঠ জব্দ করে সীমান্ত নিরাপত্তাবাহিনী। এ সময় ৫৩০ পিস সেগুন কাঠ উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ লাখ টাকা। নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত কাঠগুলো হাটহাজারী রেঞ্জের আওতাধীন সর্তাবিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জ অফিসের আওতাধীন রাউজান ঢালার মুখ স্টেশন অফিসার এস এম রেজাউল ইসলাম বলেন,আমরা মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করি। রাউজানের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে কাঠ পাচার হয় ঠিকই, তবে জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রাউজানে কয়টি বৈধ ও অবৈধ করাতকল রয়েছে—সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা বলেন,অবৈধ কাঠ পাচার ও করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট