1. multicare.net@gmail.com : আলোকিত রাউজান :
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সরকারী ও নিজস্ব তহবিলের খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছি বন্যা দুর্গতদেরঃ গিয়াস কাদের চৌধুরী এমপি রাউজানে এমপির ব্যক্তিগত তহবিলের ত্রাণ বিতরণ করলেন এমপির পুত্রবধূ রাউজানে টানা বৃষ্টিতে কর্মহীন মানুষের মাঝে চালসহ শুকনো খাবার বিতরণ চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক ও রাউজানের বিভিন্ন সড়কে পানি, যানচলাচলকারী যানচলাচল বন্ধ বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) রাউজান দক্ষিণ শাখার কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত কাগতিয়া দরবার শরীফে পবিত্র শোহাদায়ে কারবালা (রা.) স্মরণে ৭৪তম আশুরা মাহফিল উদযাপিত জনদুর্ভোগ লাঘবে রাউজান পৌর কর্তৃপক্ষের নালা পরিষ্কার কার্যক্রম চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে যোগ দিবস অংশ নিলেন শত শত যোগপ্রেমী রাউজানে যুবদলনেতা মাসুদ হত্যা মামলার আসামি পার্বত্য এলাকায় র‍্যাবের হাতে আটক হালদা নদীতে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ

চট্টগ্রাম বাস শ্রমিকের নেতাদের ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৩১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে সাধারণ শ্রমিক নেতৃবৃন্দের ব্যানারে। একই সাথে সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের জের টেনে পাঠানো একটি কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবও দিয়েছেন উপদেষ্টা এমদাদুল হক কোম্পানি।১৫ ফেব্রুয়ারী রবিবার সকালে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনস্থ বাস শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ সাংবাদিক সম্মেলন করেন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা এমদাদুল হক কোম্পানিসহ শ্রমিক নেতারা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,সমিতির সভাপতি / সাধারণ সম্পাদক সহ আরও কয়েকজন শ্রমিক নেতার যোগসাজশে শ্রমিকের উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।তিনি বলেন সাধারণ শ্রমিকের প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৭০ টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি তথ্য আমাদের কাছে আছে। তিনি বলেন দাবি করেন শ্রমিকের ঘামঝড়া জমানো টাকা আত্মসাৎকারীদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে। নিরপেক্ষ ভাবে অডিট নিয়োগ দিয়ে হিসাব দিতে হবে বর্তমান কমিটিকে। অন্যতাই যেকোনো পরিস্থিতি ভোগ করতে শ্রমিক নেতাদের।
তিনি বলেন, ২০১৮ইং সালে সাধারণ সভায় অনুষ্ঠিত হয়। ও-ই বছরের ১৮ জুলাই হতে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯৫ টাকা। কোন প্রকার ঋন ছিল না। ২০২২ সালের হিসাবে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋন দেখানো হয়। যাহা লোকচক্ষুরের অন্তরালে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
গত ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসের ২৮ তারিখ শ্রমিক ইউনিয়নের তহবিল থেকে শ্যামলী পরিবহন নামে একটা যাত্রীবাহী বাস ক্রয় করা হয়েছিল ৩৫ লাখ টাকা দেখিয়ে। পর্বতীতে প্রমাণিত হয়েছে গাড়ীটি ২৬ লক্ষ টাকায় ক্রয় করা হয়েছে। ক্রয় করা গাড়ি থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা।
সমিতির সাধারণ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অর্থের বিনিময়ে রাউজান জলিল নগর বাস ষ্টেশনে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতল একটি নিজস্ব কার্যালয়। কোন প্রকার সিন্ধান্ত ছাড়াই অফিস কক্ষ সরিয়ে এ ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া দিয়েছে একজন হোটেল মালিককে। ৪৪ লাখ টাকা জামানত নিয়ে ছিল। একই সাথে নিচ তলার কয়েকটি দোকান ঘর থেকে আরও ১০ লাখ টাকা জামানত নিয়েছে। সর্বমোট ৫৯ লক্ষ টাকা জামানত নিয়ে তারা সমিতির ঋন হিসাবে দেখানো হয়েছে। সমিতির সদস্যরা এসব অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ২০১৮ সালের অক্টোবর হতে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আয় দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লক্ষ ৬৫২ টাকা। শ্রমিকদের অভিযোগ আয়কৃত টাকা ব্যাংকে জমা না করে সমিতির সভাপতি / সম্পাদক নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুঁজি হিসাবে ব্যবহার করেছে। যার কারণে শ্রমিকরা প্রায় ১৫ লাখ টাকা মুনাফা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সমিতির নিজস্ব মালিকানায় একটি গাড়ি তৈরির সিন্ধান্ত হয়। এজন্য একটি কমিটিও গঠিত হয়। গঠিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে কানু নাথ নামে এক সদস্য ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় একটি ইঞ্জিন ক্রয় করে সমিতির গাড়িতে না লাগিয়ে নিজের গাড়িতে ফিটিংস করে ফেলে। পর্বতীতে ২ লাখ টাকা খরচ করে সমিতির গাড়িটি মেরামত করতে হয়। ইঞ্জিন ক্রয় ও মেরামত জালিয়াতির ঘটনায় কয়েকবার সালিশি বৈঠক হয় সমিতির কার্যালয়ে। বৈঠকে কানু নাথের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু রহস্য জনক ভাবে সমিতির দায়িত্বশীলরা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অপরদিকে ২০২২ সালের সাধারণ সভায় সমিতির স্থিতি ছিল- ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৩ টাকা। আয়ের খাতে ঋন দেখানো হয় ৩৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ৯৭০ টাকা। আবার ঋণের বিপরীতে লভ্যাংশ প্রদান করা হয় ৪ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৫৯ টাকা। সাধারণ সভা পরবর্তী নির্বাচন শেষে নতুন কমিটির অর্থ সম্পাদককে হিসাব দেওয়ার সময় সমিতির ঋণ দেখানো হয়েছে ২৯ লাখ ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা। তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি এ হিসাব বিবরণী সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, জালিয়াতি করে সাজানো হয়েছে।
অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে শ্রমিকের মৃত্যু ফান্ড থেকে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও সমিতির ঋন গ্রহণ বাবদ আরো ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ ইউনুচ ১০ লাখ টাকা ঋন প্রদান তালিকা বানিয়েছেন বলে দাবি করেন এক শ্রমিক নেতা। তিনি বলেন, সাবেক সভাপতি ইউনুচ ও খোরশেদ আলম দশ লাখ টাকা সমিতিকে ঋন দেওয়া নাটক হাস্যকর। তারা দুইজনসহ কানু নাথ সমিতির সাধারণ সদস্যদের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তিনি বলেন সাধারণ সদস্যদের দাবি অডিট নয়, সদস্যদের মনোনীত ৫ জন সাধারণ সদস্যের মাধ্যমে আয় ব্যয় বিবরণী তদন্ত করা হোক।
বাস- মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ের সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক বর্তমান উপদেষ্টা এমদাদুল হক কোম্পানী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর আমরা সমিতির একটি অডিট করেছি।দায়িত্ব প্রাপ্ত অডিটর মোঃ ইকবাল হোসেন অভিযুক্ত কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নিকট থেকে উৎকোচ খেয়ে মনগড়া অডিট রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। খরচের ভাউচার ও ক্রয় সংক্রান্ত ভাউচার না নিয়ে এ অডিট করা হয়েছে।আমরা এ হিসাবের অডিট প্রত্যাখ্যান করেছি। তিনি সমিতির অর্থ আত্মসাৎকারীদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান। একই সাথে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। এ সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা সৈয়্যদ মিয়া, মো. হাবীব, বেদার মিয়া, মো. বাঁচা, ইছা চৌধুরী, মো. আবু, মো. শুক্কু্র, মো. মান্নান, বাবুল, সেলিম, আব্দুল মান্নান, অনাদী বড়ুয়া, কাজল দাশ, মো. রাশেদ, মো. মফিজ, মোহন বাবু, শুরা মিয়া, তপন দে, কামাল উদ্দিন, আইয়ুব, মো.নূরীয়া প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট