
রাউজান উত্তর গুজরাস্থ ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ ও শ্রীশ্রী জ্বালামুখী মন্দিরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহোৎসব যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভক্ত-অনুরাগীদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী এই মহোৎসব এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মহোৎসবে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান,অধিবাস কীর্তন,পবিত্র গঙ্গাপূজা, নগরকীর্তন, অন্নপ্রসাদ বিতরণ এবং অষ্টপ্রহরব্যাপী শ্রীশ্রী শুভ তারকব্রহ্ম মহানাম সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভক্তদের পদচারণায় মন্দির প্রাঙ্গণ মুখরিত ছিল।মন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূজার পুরোহিত্য করেন পণ্ডিত বিপ্লব পারিয়াল,পণ্ডিত জয় চক্রবর্তী,দোলন চক্রবর্তী ও স্বপন চক্রবর্তী।
১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অনুষ্ঠিত শুভ গন্ধাধিবাসের অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও ধর্মীয় আবেগঘন।
অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানাম সংকীর্তনের সূচনালগ্নে পৌরোহিত্য ও অধিবাস কীর্তন পরিবেশন করেন চুনতী লোহাগাড়ার সন্তান বৈষ্ণব প্রবর ধনঞ্জয় গোস্বামী। তাঁর মনমুগ্ধকর কণ্ঠে উচ্চারিত কৃষ্ণকথা ও হরিনাম সংকীর্তন ভক্তদের হৃদয়কে ভক্তি, প্রেম ও আধ্যাত্মিক আনন্দে সুশোভিত করে তোলে। এদিন মন্দির প্রাঙ্গণ ফুল ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। ভক্তদের উপস্থিতিতে পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার অহোরাত্রি নামসুধা বিতরণ করেন- গোপালগঞ্জের কৈবল্যনাথ সম্প্রদায়, সিলেটের জয় মহাপ্রভু সম্প্রদায়, নেত্রকোনার বাবা লোকনাথ সম্প্রদায় এবং চট্টগ্রামের মহানাম সম্প্রদায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উৎসব উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা সাবেক মেম্বার বাবুল সেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশীষ কুমার চক্রবর্তী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাতকড়ি সেন, অজিত সেন, বাদল সেন, দিলীপ সেন, সপু দাশ, হারাধন মহাজন ও শিবু প্রসাদ বিশ্বাস। এছাড়া উৎসব কমিটির সভাপতি লায়ন কৈলাশ বিহারী সেন, চন্দন কুমার চক্রবর্তী, রাজন সেন, পল্টু বিশ্বাস, পংকজ সেন, রুপন পালিত, রাউজান প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি যীশু সেন, প্রকৌশলী সুমন সেন, মিটন বিশ্বাস, লিটন চক্রবর্তী, সঞ্জয় সেন, জিতুল চক্রবর্তী, উজ্জ্বল দত্ত বাসু,রাউজান বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাপস সেন, রাজীব দে, চম্পক চক্রবর্তী (রিটু), রনি দেওয়ানজি, রাজু দাশ, অভি চক্রবর্তী, উজ্জ্বল চক্রবর্তী ও জুয়েল চক্রবর্তী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কৃষ্ণ ও রামের নামস্মরণ মানুষের মনে ভক্তি, প্রেম ও আত্মিক শান্তি জাগ্রত করে। নামসংকীর্তনের মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হয় এবং মন, বাক্য ও কর্ম শুদ্ধ হয়। ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ আছে—কলিযুগে যজ্ঞ, তপস্যা বা কঠিন সাধনার চেয়ে নামযজ্ঞই সর্বোত্তম। সমবেত কীর্তনের মাধ্যমে সমাজে সৌহার্দ্য, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়।
তারা আরও বলেন, কলিযুগে মুক্তির সহজ পথ হিসেবে মহানাম সংকীর্তনের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত নামকীর্তন মানসিক শান্তি এনে দেয় এবং আধ্যাত্মিক আনন্দে জীবনকে পরিপূর্ণ করে।সর্বোপরি, অষ্টপ্রহরব্যাপী এই মহোৎসব ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করার পাশাপাশি সমাজে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
Leave a Reply